মুস্তাহাব ও মুবাহ কাজগুলো কি ও কেন?

আমরা প্রতিদিন যেসকল কাজ করি তার মধ্যে অনেকগুলো কাজ আছে যা মোস্তাহাব ও মোবাহ, যেগুলো ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নতের মধ্যে পড়ে না।

জায়েজ কাজ ৫ প্রকারঃ ১।ফরজ ২। ওয়াজিব ৩। সুন্নত ৪। মুস্তাহাব ৫। মুবাহ।

ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নতের পরে মোস্তাহাব ও মোবাহ আমলের গুরুত্ব রয়েছে। মুস্তাহাবঃ যা করলে সওয়াব আছে, নাকরলে গোনাহ নাই। আর মুবাহঃ যা করা বৈধ কিন্তু হারাম নয়।

 

মুস্তাহাব ও মুবাহ কাজগুলো কি ও কেন?
মুস্তাহাব ও মুবাহ কাজগুলো কি ও কেন? 



       মুস্তাহাব ও মুবাহ কাজের গুরুত্ব

 

পবিত্র কুরআনের দৃষ্টিতে মুস্তাহাব ও মুবাহ কাজের গুরুত্বঃ

আল্লাহ তায়ালা বলেন,
১। সূরা আল হাজ্জ্ব, আয়াত: ৭৭।
সূরা আল হাজ্জ্ব (الحجّ), আয়াত: ৭৭
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ٱرْكَعُوا۟ وَٱسْجُدُوا۟ وَٱعْبُدُوا۟ رَبَّكُمْ وَٱفْعَلُوا۟ ٱلْخَيْرَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ۩
অর্থঃহে মুমিনগণ! তোমরা রুকু কর, সেজদা কর, তোমাদের পালনকর্তার এবাদত কর এবং সৎকাজ সম্পাদন কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।
 

২।সূরা আল বাকারা, আয়াত: ১৫৮।
وَمَن تَطَوَّعَ خَيْرًا فَإِنَّ ٱللَّهَ شَاكِرٌ عَلِيمٌ
অর্থঃবরং কেউ যদি স্বেচ্ছায় কিছু নেকীর কাজ করে, তবে আল্লাহ তা’আলার অবশ্যই তা অবগত হবেন এবং তার সে আমলের সঠিক মুল্য দেবেন।
  এই সৎ বা ভাল কাজ অনির্ধারিত। যা কিছু ভাল মনে হবে,তাই করা যাবে।শুধু নিষেধ না হলেই চলবে। 

 

 

হাদীসের দৃষ্টিতে মুস্তাহাব ও মুবাহ কাজের গুরুত্বঃ

১। জনৈক নাজ্‌দবাসী আল্লাহর রসূল সাঃএর নিকট এলো। তার মাথার চুল ছিল এলোমেলো। আমরা তার কথার মৃদু আওয়ায শুনতে পাচ্ছিলাম, কিন্তু সে কি বলছিল, আমরা তা বুঝতে পারছিলাম না। এভাবে সে নিকটে এসে ইসলাম সম্পর্কে প্রশ্ন করতে লাগল।

 আল্লাহর রসূল সাঃ বললেনঃ দিন-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ। সে বলল, 'আমার উপর এ ছাড়া আরো সালাত আছে?’ তিনি বললেনঃ না, তবে নফল আদায় করতে পার। আল্লাহর রসূল সাঃ বললেনঃ আর রমযানের সাওম ফরজ। সে বলল, ‘আমার উপর এছাড়া আরো সাওম আছে?’ তিনি বললেনঃ ‘না, তবে নফল আদায় করতে পার। 

বর্ণনাকারী বলেন, আল্লাহর রসূল সাঃ তার নিকট যাকাতের কথা বললেন। সে বলল, ‘আমার উপর এছাড়া আরো আছে?’ তিনি বললেনঃ ‘না, তবে নফল হিসেবে দিতে পার। বর্ননাকারী বলেন, ‘সে ব্যক্তি এই বলে চলে গেলেন; ‘আল্লাহর শপথ’ আমি এর চেয়ে অধিকও করব না এবং কমও করব না।’ তখন আল্লাহর রসূল সাঃবললেনঃ ‘সে কৃতকার্য হবে যদি সত্য বলে থাকে।’
[সহিহ বুখারী,হাদীস appথেকে]
    

হাদীসে লোকটিকে রাসুল সাঃ বাড়তি সালাত, সাওম ও সদাকাহ বা দান করার অনুমতি দিয়েছেন, যার ধরণ তিনি বলেননি। অর্থাৎ লোকটা তার ইচ্ছামত করতে পারবে। এগুলো মুস্তাহাব ও মুবাহ আমল। 

 

২। তাছাড়া বেলাল রাঃ সব সময় ওযু করার পর দু'রাকাত সালাত আদায় করতেন। (সংগৃহীত)  

৩। আবদুল্লাহ্ ইবনু মাসলামা রহঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমরা রাসুল সঃ এর পিছনে সালাত আদায় করলাম। তিনি যখন রুকূ থেকে মাথা উঠিয়ে 'সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদা’ বললেন, তখন পিছন থেকে এক সাহাবী বললেন
اَللّهُمَّ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ، حَمْداً كَثيراً طَيِّباً مُبارَكاً فِيهِ
"হে আমাদের প্রতিপালক! আর আপনার জন্যই সমস্ত প্রশংসা; অঢেল, পবিত্র ও বরকত-রয়েছে এমন প্রশংসা"।

 সালাত শেষ করে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কে এরূপ বলেছিল? সে সাহাবী বললেন, আমি। তখন রাসুল সঃ  বললেনঃ আমি দেখলাম ত্রিশ জনের বেশী ফিরিশতা এর সাওয়াব কে আগে লিখবেন তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করছেন। (সহিহ বুখারি)                            

সাহাবী রাঃ এই কাজ করতে রাসূল সঃ কখনো বলেননি, কিন্তু ঐ সাহাবী রাঃ করেছেন
   

 সাহাবীগণ এভাবে অনেক অতিরিক্ত কাজ করতেন, যা রাসূল সঃ করতে বলেননি। এগুলো সব মুস্তাহাব ও মুবাহ কাজ।
    

তাই আমরা মনে করি, রাসূলের প্রতি দুরুদ পড়া, কোরআন তেলোয়াত করা, মৃত ব্যাক্তির ৩দিনা, ৪০শা, মৃত্যু ও জন্ম বার্ষিকী বা কোন দিবস পালন উপলক্ষ্যে যে কোন ভাল কাজ করা ও লোকজনদের খাওয়ানো জায়েজ, মোস্তাহাব ও পূর্ণের কাজ। আর জন্ম ও মৃত্যুদিন পালন, শবে বরাতে হালুয়া বানানো, খাওয়া ও খাওয়ানো ইত্যাদি কাজ মুবাহ বা জায়েজ কাজ।  

 

৪। জনৈক ব্যক্তি আল্লাহর রসূল সাঃ কে জিজ্ঞেস করল, ইসলামে কোন্‌ জিনিসটি উত্তম? তিনি বললেন, তুমি খাদ্য খাওয়াবে ও চেনা অচেনা সকলকে সালাম দিবে। [সহিহ বুখারী,] 

এই খাদ্য খাওয়ানোর কাজ আপনি যে কোন দিন করতে পারেন।
 

অনেকে আছেন, যারা সব কাজকর্ম ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নত এই ৩টির মধ্যে আবদ্ধ করে ফেলেন। এর বাহিরে মুস্তাহাব ও মুবাহও যে আছে তা ভাবেন নাএটা ঠিক নয়। ইসলাম মানুষকে স্বাধীন ভাবে অনেক অনেক কাজ করতে অনুমতি দিয়েছেন, যা ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নতে নাই। তা নিয়েও আমাদের ভাবতে হবে। আপনি নাকরেন তাতে আপত্তি নাই কিন্তু অন্যকে করতে বাধা দেয়া বা আপত্তি করা উচিত নয়।
 

আল্লাহ তায়ালা আমাদের বেশি বেশি ভাল কাজ করার তৌফিক দান করুন- আমিন।

*জায়েজ, নাজায়েজ ও বিদয়াত সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন।



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ